কুড়িগ্রামে আমার যোগদানের এক বছর পুর্ণ হল। এ লেখাটি মূলত বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি স্টেশনে যোগদানের প্রথম দিনের স্মৃতিকথা

0
12
লেখাটা অনেক বড়, যারা পুরোটা পড়বেন না তাদের জন্য অল্প কথায় বলে দেই, আজ ২৩ জুন, কুড়িগ্রামে আমার যোগদানের এক বছর পুর্ণ হল। এ লেখাটি মূলত বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি স্টেশনে যোগদানের প্রথম দিনের স্মৃতিকথা।লেখাটা শুরু করেছিলাম যেভাবে শেষটা সেভাবে করতে পারিনি, ধরনটা আমার নিজেরই পছন্দ হয়নি, পত্রিকার পাতায় সংবাদ লেখার মত হয়ে গেছে, তবুও শেষ পর্যন্ত যারা পড়বেন, অগ্রিম ধন্যবাদ।
জুন মাসটা বোধহয় আমার বদলির বছর সেই ২০১০ থেকে। ঐ পছর মিশনে যাই একবছরের জন্য। ফিরে এসে আরেক জুনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ বদলি। ১০ মাসের মাথায় প্রমোশন পেয়ে দুই মাস এডিশনাল এসপি হিসেবে একই ডেস্ক দেখতাম, তারপর আবারও জুন মাসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি হলাম শেরপুরে। সেখানে যোগদান করতে যাই সম্ভবত ১৫ জুন; মহাখালী থেকে বাসে চেপে, শেরপুরের এক সার্জেন্ট সিটের কথা বলে রেখেছিলেন। বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে ভিআইপি সিটে ( বাসের অবস্থা তথৈবচ)বসে চারপাশ দেখতে দেখতে রওনা করলাম,এর আগে আমি ঐ দিকে গাজীপুরের পরে যাইনি, গাজীপুরের জ্যাম পেরিয়ে ভালুকা ছাড়িয়ে ময়মনসিংহ রোডে গিয়ে একটু যানজট কমলো, তারপর আবার মাঝের স্টপেজগুলোতে থেমে থেমে যানজট। ময়মনসিংহ হাইওয়েতে তেমন ভালো কোন রেস্টুরেন্ট নেই, জার্নি টাইম কম বলে প্রয়োজনও হয়না, তবে ঈশ্বরগন্জে এসে একটা রেস্টুরেন্টে যখন বাস থামল তখন হেলথ ব্রেক নেয়ার জন্য নামলাম।ওয়াসরুম থেকে আসার পর বাসের সুপারভাইজার কিছু খাবো কিনা জিজ্ঞেস করলেন,জেলা পুলিশের দ্বিতীয় কর্তাব্যক্তি বলে কথা।এর আগে চাকরী করেছি ডিএমপিতে আর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সেএত এত অফিসারের ভীড়ে আলাদা করে কেউ চেনেনা, তাই এক্সট্রা খাতির পেয়ে ভালই লাগছিল, সকাল ১০ টার দিকে রওনা করে পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল।বাসে কেউ ভাড়া চায়নি, পথ চলতি দুলুনিতে আমিও একটু নিদ্রাদেবীর আরাধনায় ছিলাম বলে খেয়াল করিনি, নেমে সুপারভাইজারকে বললাম ভাড়া দিতে, তিনি নিতে চাইলেন না, এত খাতির মেনে নিতে পারলাম না, জোর করে ভাড়া দিয়েই বাস থেক নেমে দেখি বডিগার্ড ও চালক সমেত নীল রঙের সরকারী জীপ( এখন পর্যন্ত জেলার এডিশনাল এসপির ট্রেডমার্ক এই গাড়ী) দাড়িয়ে আছে। পিআরবি অনুযায়ী এডিশনাল এসপি হওয়ার পর পুলিশ অফিসাররা দেহরক্ষী প্রাপ্য, এর আগে চাকরীর বেশীরভাগ সময় ডিএমপিতে থাকার কারনে কোন অর্ডারলিও পেতামনা, নিয়ম ছিল নিজ ইউনিট থেকে অর্ডারলি নেওয়ার, ডিবিতে অধিকাংশ বয়স্ক কনস্টবল থাকায় আর নেয়া হয়ে ওঠেনি, দিনের পর দিন একাই চলাফেরা করেছি, সবচেয়ে পেইন ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা, প্রায়শই বিভিন্ন বিভাগীয় মামলার তদন্ত রিপোর্ট নিজ হাতেই টাইপ করতে হতো।দেহরক্ষী সমেত জীপ পেয়ে এতদিনে মনে হল আমার প্রমোশন হয়েছে। গাড়ী নিয়ে সোজা পুলিশ অফিসে গিয়ে ঐ সন্ধ্যাতেই আর্টিকেল ৪৭ পূরন করলাম, এসপি স্যার ঐ সময় একটা ট্রেনিংয়ে ঢাকায় ছিলেন, অফিসে কিছুক্ষন বসলাম, শুক্রবার থাকায় অফিসে স্টেনো ব্যতীত কেউ নেই, কিছুক্ষন বসে ভাবলাম পুলিশ লাইনটা ঘুরে আসি, শেরপুরে জেলা ১৯৮৪ সনে প্রতিষ্ঠিত , সে সময়কার পুলিশ লাইনগুলোর আকার ও পরিকল্পনা মোটামুটি একই রকম, অল্প সময়েই পুলিশ লাইন দেখা হয়ে গেল, আর আমার পরবর্তী দিনগুলো কাটবে এই লাইনকে ঘিরেই , একদিনে সব দেখে ফেললে পরে আর কি দেখবো, লাইন থেকে বের হয়ে সার্কিট হাউজে গেলাম; আগেই রুম রাখা ছিল, আরাই কে বলে দিয়েছিলাম পুলিশ লাইন যতদিন ফ্যামিলি নিয়ে না আসি পুলিশ লাইন মেস থেকেই খাবার দিতে; মাস শেষে বিল দিয়ে দিবো। সারাদিনের ধকল আর জুনের গরমে হাপিয়ে উঠিছিলাম; তবে আমার একটা বদভ্যাস( নাকি সদভ্যাস?) নতুন যেখানে যাই, আগে লাগেজ খুলে সব গুছাই , তারপর শাওয়ার নিয়ে বাকি কাজ। সেভাবেই সারলাম, বডিগার্ড রাউফুর কে বললাম, আমি ফ্রেশ হই তুমি খাবার নিয়ে আসো,শাওয়ার নিয়ে বাসায় ফোনে কথা বলা শেষ করতেই রাতের খাবার চলে আসলো। খাওয়া শেষে বিছানায় গিয়ে ঘুমের তো দেখা নেই; শেরপুরে সার্কিট হাউজটা শহর থেকে একটু বাইরে; চারপাশটা নির্জন; থেকে থেকে শিয়ালের হাক আর ঝিঝির ডাক, সারাদিনের জার্নি শেষে কোথায় চোখ ভেঙ্গে ঘুম আসবে উল্টো বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে একসময় চোখগুলো কখন বুজে এসেছিল মনে নেই। পরদিন সকালেই আবার শেরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর প্রটোকল ডিউটি, এসপি স্যার না থাকায় প্রথম দিনেই আমাকে ভারপ্রাপ্ত এসপির দায়িত্ব নিতে হয়েছিল; নকলায় মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় তাকে রিসিভ করতে গেলাম, সেখানেই পরিচয় জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন সাহেবের সাথে , প্রশাসন ক্যাডারের সিনিয়রকর্মকর্তা, সজ্জন ব্যক্তি, নিজে নজরুল বিশেষজ্ঞ, আবার ছোটেছোট কবিতা লেখেন; নকলার আনুষ্ঠানিকতা সেরে গন্তব্য নালিতাবাড়ী, সেখানে কিছু প্রোগ্রাম শেষে বিকালে নালিতাবাড়ীতে মুক্তমন্চের সভা শেষ করে সার্কিট হাউজে ফিরতে ফিরতে রাত ৯।০০ টা বেজেছিল।এভাবে পার করলাম শেরপুরের প্রথম দিন, সেখানে কেটে গেছে চাকরী জীবনের সাড়ে তিন বছর, অনেক অনেক ঘটনা সামলাতে হয়েছে, অনেক অপরিচিত মানুষ আপন হয়েছে, যাদের সাথে এখনও মাঝেমাঝে কথা হয়, বল্ধু বা আত্মীয়রা বেড়াতে গেলে তাদের নিয়ে গজনী, মধুটিলা যাওয়া ছিল রুটিন ওয়ার্ক, সেসব কাহিনী লিখলে উপন্যাস হয়ে যাবে, ইতিমধ্যেই যারা পড়া ছেড়ে দেবেন ভাবছেন তাদের ধৈর্য্যচ্যুতি না ঘটিয়ে পরের স্টেশনে চলে যাই, আরেক জুনের কাহিনী শোনাতে।এই লেখাটাতে মূলত নতুন ইউনিটে যোগদানের প্রথম দিনের কথাগুলোই লিখবো।
২০১৫ এর জুনে আমার আবার বদলি হয় নারায়নগন্জ জেলায়, বদলিটা প্রত্যাশিতই ছিল, ঢাকা ছেকে দূরে আর থাকতে ভাল লাগছিল না, তবে একেবারে মফস্বল জেলা হতে ঢাকার কাছে অপরাধপ্রবন একটি জেলায় বদলীটাকে চ্যালেন্জিং ও মনে হল, বগলির দুই তিন দিন পরেই কলা আর সারিমকে শেরপুরে রেখে নতুন শ্টেশনে যোগদানের জন্য রওনা হই; এবার আর সরাসরি না, ঢাকায় মিরপুরে বড়আপার বাসায় একরাত থেকে পরের দিন সকালে একটা মাইক্রো তে করে সোজা এসপি অফিস। তখন পুলিশ সুপার ছিলেন ড খন্দকার মহিদউদ্দীন, নরসিংদীতে লোকমান হত্যা রহস্য উদঘাটনের পর নারায়নগন্জের সাত খুনের ঘটনার ঘটলে তিনি নারায়নগন্জ জেলার দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং সেখানেও সফলতার পরিচয় দেন, শেরপুরে আমার দুইজন এসপি আনিসস্যার ও মেহেদুল স্যার ছিলেন ২০তম ব্যাচের, আমার দুই ব্যাচ সিনিয়র, মহিদ স্যার ১৭ তম ব্যাচের দিক পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমান বলা যায়, স্যারের হালকা পাতলা শরীর, ব্যারেট াপ পরার আলাদা এক স্টাইল আর প্রখর ব্যক্তিত্ব যে কাউকে মুগ্ধ করবে, ভেতরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে সামনে বসে খাকলাম; কুশল বিনিময়ের পর কাজ বুঝে নিতে বললেন; বললেন “এখানে বাকি দুইজন তোমার ব্যাচমেট , সিরিয়ালে যেহেতু তুমি
সিনিয়র তাই এডিশনাল এসপি ই দেখবে”, এখানে সূযোগ হয়েছিল আমার দুই ব্যাচমেটে জাকারিয়া আর মোখলেস ভাইয়ের সাথে চমৎকার একটা টিম হিসেবে কাজ করার। সরকারী বাসায় কিছু কাজ করিয়ে উঠতে দেরী হবে বলে জাকারিয়া ভাইয়ের ভাড়া ফ্লাটের একটা রুমে থাকতাম; থাকা বলতে রাতে এসে ঘুমানো; সারা দিন অফিস, সন্ধ্যার পরও অফিস করে রুম যেতে যেতে ১১-১২ টা, ক্যাডার সার্ভিসে পুলিশ অফিসারদেরই বোধহয় সন্ধ্যার পর আলাদাভাবে আবার অফিস করার কালচার আছে, যেটা মোটামুটি সব পুলিশ সুপারই করে থাকেন, সারাদিন ফিল্ডের নানা ভিজিট সেরে দাপ্তরিক কাজগুলো সারার জন্যই এই আয়োজন, আমি অবশ্য সন্ধ্যার পর নিজের অফিসে না বসে থানাগুলোতে যাই বা বিভিন্ন চেকপোস্ট আর টহলগুলো তদারকি করি।বাসায় ফিরে পুলিশ লাইন থেকে আনা মেসের খাবার খেয়ে ঘুম; মাঝেমাঝে ঐ ফ্লাটের উপরে মোখলেস ভাইয়ের বাসায় দাওয়াত অথবা জাকারিয়া ভাইয়ের রান্না খিচুড়িতে আড্ডাটাও দারুন জমতো, তবে এই সময়ে ঝামেলা হচ্ছিল কনাকে নিয়ে আসতে পারছিলাম না, ঢাকায় এসে কথা বলে কনারও সোনারগায়ে পোস্টিং হল তবে প্রশাসনিক এক জটিলতায় শেরপুর থেকে রিলিজ পেতে দেরী হচ্ছিল, ১৫-৩০ দিন পরে আমি নিতাইগন্জে লাল রঙের দ্বিতল বাড়ীতে উঠলাম; সরকারী বাবুর্চি থাকায় খাওয়ার কষ্টও কমলো, বাড়ীটা অনেক আগে তৈরী, বাড়ীর ছাদ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুন উচ্চতায়, পাযে এক চিলতে খালি জায়গায় শীতে সবজির চাষ করেছিলাম, এখানেও একা একা থাকি প্রায় তিন মাস, আগস্টের ১৪ তারিখ কনাদের নিয়ে আসি, এখন একটু নিশ্চিন্ত হই; বড় জেলা; সকালে অফিসে আসার করার পর কাজের আর শেষ নেই; সারা দিনই রেশন, নি্র্মান,মেরামত, ডি স্টোর, সি স্টোর, এমটির টেন্ডার, ক্যাশবই লেখা,কনস্টবলদের বদলি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, একটু ফুসরত পেলেই পুলিশ লাইনে গিয়ে মেস , ফোর্সের খাবারের মান যাচাই, পুলিশ লাইন স্কুলের প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজের দেখাশুনা খোজখবর নেয়াতেই দিন পার হয়ে যেত; এখানে আমি প্রশাসন দেখতাম বলে ক্রাইম ওয়ার্কের দিকে নজর দিতে হতোনা; বিভিন্ন সময়ে চান্চল্যকর কিছু ঘটনা ঘটলেও এখানে দারুন সব দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিসার ছিলেন যারা তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতায় মামলার রহস্য উদঘাটন করে ফেলতেন।এরকম এক ঘটনা ঘটেছিল এক রোজায়; এসপি সচারকে বলে ঢাকায় এসেছিলাম বন্ধুদের সাথে ইফতার করতে; ইফতার শেষ হতে না হতেই কনট্রোল থেকে ফোন, এক বড়ীতে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা। তাৎক্ষনিক ছুটে গিয়েছিলাম, সারা রাত ক্রাইম সিন থেকে আলামক সংগ্রহ, আলামত যাত নষ্ট না হয় সেজন্য ফোর্স ডেপলয়মেন্ট, পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানোর কাজ করতে করতে সকাল হয়ে গিয়েছিল, অন্য টিম সন্দেহভাজন এক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা গেল ভিকটিমের এক ভাগ্নেই খুনের সাথে জড়িত। উল্লেখযোগ্য স্মৃতির মধ্যে আরেকটি হল সাত খুন মামলায় নূর হোসেনকে আদালতে হাজির, সারা দেশের সব মিডিয়া যেন সেদিন আদালতে হাজির হয়েছিল, নারায়নগন্জে খুব বেশীদিন থাকা হয়নি, পদোন্নতির জন্য প্রহর গুনছিলাম আমরা, এসপি স্যার প্রমোশন পেয়ে এডিশনাল ডিআইজি হলেন, আর কিছুদিন পরেই আমরা তিন ব্যাচমেট এসপি পদে পদোন্নতি পাই। এক বছরে কম স্মৃতি জমেনি, উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে গুলি করা, মাঝেমাঝে শ্রমিকদের অবরোধে বন্ধ হয়ে যাওযা হাইওয়ে ফ্রি করতে সারাদিন রাসেতায় পরে থাকতে হতো, বিশেষ করে ঈদের সময়টা কাটতো রাস্তাতেই, তবে আমরা তিনজন ব্যাচমেট হওয়াতে মাঝেমাঝে রাতে চেকপোস্ট গুলো চেক করতে কখনও গাজীপুরে , কখনও নরসিংদীর সীমানায় চলে গিয়েছি, সেখানে থাকা হোটেলে গরম গরম পরাটা আর গরুর মাংসের স্বাদ ভোলার না।
এসপি পদে পদোন্নতির পর পোস্টিং এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল চার মাসের বেশী। এবার আর জুন না বদলী হলাম আগস্টে, প্রিয় ইউনিট ডিএমপিতে, অলিভ রঙ্গের ইউনিফর্মে, যদিও ডিএমপির তিন বছরে সাকুল্যে চার থেকে পাচ বার ইউনিফর্ম পরেছি, সিটিটসিতে সাদা পোশাকেই কাজ করতাম। সিটিটিসি নিয়ে আমি আগেও অনেক লিখেছি, তাই এখানে বিশদ লিখবো না, শুধু এটুকুই বলবো এখন পর্যন্ত চাকরী জীবনে আমার কাছে সেরা ইউনিট সিটিটিসি, মনির স্যারের দক্ষ নেতৃত্ব আর একঝাক তরুন ক্যাডার অফিসারের যে টিম ম তা দেশের আর কোথায়- আছে বলে আমার মনে হয়না।সিটিটিসিতে যোগদানের এক নাস আগে হলি আর্টিজানের ঘটনা ঘটে তারপর ধারবাহিকভাবে দুই বছর এই ইউনিটের সদস্যদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে, সারা দেশে করতে হয়েছে অসংখ্য অভিযান,হলি আর্টিজান মামলার সুপারভিশন কর্মকর্তা হিসেবে খুব কাছ থেকে বাংলাদেশের তৎকালীন জঙ্গীবাদের পুরো চিত্রটা দেখতে পেয়েছি।এখানে থেকে মনির স্যারের কাছে সন্ত্রাসবাদের অ আ ক খ এর যে পাঠ নিয়েছি তিন বছর কাজ করে সে সম্পর্কে আরও বিশদ জেনেছি, আমার মনে হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র এই ইউনিটটিতেই জ্ঞানচর্চার( সন্ত্রাসবাদ) এর একটি ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে, প্রাযঋই নান সেমিনার ওয়ার্কশপ বা টপিকভিত্তিক আলোচনার সেশনগুলো পরবর্তীতে বিভিনেন দেশে গিয়ে সাবলীলভাবে কথা বলতে শিখিয়েছে।সবচেয়ে বড় পাওযা আন্তর্জার্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের পুলিশ সদস্যদের সাথে পরিচয়ের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল সে সকল দেশে নানা প্রশিক্ষনে গিয়ে।এ সূযোগটাও বাংলাদেশ পুলিশের অন্য কোন ইউনিটে পাওয়া যাবেনা।
আবারও এক জুনে বদলির আদেশ পেলাম, ১৩ জুন, ২০১৯ পুলিশ সুপার কুড়িগ্রাম হিসেবে আমার পদায়ন হয়।এই খবর শুনে কনা প্রথম কয়েকদিন খুব বিচলিত ছিল, সে কুড়িগ্রাম যেতেই চায় নি ,বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের এই জেলার সাথে কিভাবে খাপ খাইয়ে নিবে সে চিন্তায় সে অস্থির ছিল, আমার চাকরী জীবন যদিও শুরু পন্চগড়ে প্রবেশন পিরিয়ডের মাধ্যমে তবে আমি নিজেও কখনও ভাবিনি এত দুরের জেলায় পোস্টিং হবে, তৎকালীন কমিশনার আছাদুজ্জামান স্যারের কাছে যখন বিদায় নিতে গেলাম তখন তিনিও বলেছিলেন আমার পোস্টিংয়ে তিনি খুশী নন। পোস্ট্ং অর্ডারের পর আইজিপি স্যারের সাথে দেখা করে রিক্রুট কনস্টবল নিয়োগের আগেই জেলায় যোগদান করতে হবে এই নির্দেশ পেয়ে পরিবারসহ ২৩ জুন সকালের ফ্লাইটে রওনা করলাম। সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে নেমে রংপুরে যেতে দুই ঘন্টার পথ। এদিকটাতে আগে আসি নি, এয়ারপোর্ট ছাড়াতে সৈয়দপুর নীলফামারীর বাড়িঘর দেখে শহর শহর ভাবটা আছে বোঝা গেল,একটু পার হলেই মাঝেমাঝে সবুজের দেখা মিললেও রংপুর পর্যন্ত ইটপাথরের কাঠামোই বেশী; গাড়ীতে ঘন্টাখানেকের মধ্যে ডিআইজি স্যারের অফিসে পৌছে গেলাম; ব্যাচমেট লতিফ ভাইয়ের রুমে গিয়ে ইউনিফর্ম পরে স্যারের রুমে; সারদায় ওস্তাদজীরা বলতেন সিনিয়র স্যারদের সামনে আর ঘোড়ার পেছেনে দাড়াতে নেই, তবে দিন বদলের সাথে পুরাতন ধারনাগুলোও পাল্টেছে, পুলিশ বিভাগে সিনিয়র জুনিয়রদের দূরত্ব অনেক কমেছে, ডিএমপিতে কাজ করার সুবাদে পুলিশের সিনিয়র স্যাররা সবাই ই মোটামুটি পরিচিত, যেটা যে কোন কর্মকর্তার কনফিডেন্স লেভেল বাড়িয়ে দেয়।ডিআইজি স্যারের সাথে ডিএমপিতে একই ক্যান্পাসে কাটিয়েছি প্রায় দুই বছর, তাই চেনাজানার পর্বটা সংক্ষিপ্তই হল, জেলা সম্পর্কে স্যার একটা প্রাথমিক ধারনা দিলেন , শুভকামনা জানালেন; ারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কুড়িগ্রামের দিকে রওনা, নতুন ইউনিটে কমানেডার হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছি, অচেনা একটা অনুভূতি কাজ করছিল, বারবার মনে হচ্ছিল এটা এক গুরু দায়িত্ব।রংপুর ছাড়াতে সবুজের কত রঙ, ৫০ ম্নিটের মাথায় পৌছে গেলাম তিস্তা ব্রীজে; কুড়িগ্রামে আসার আগে ইউটিউব আর গুগল ঘেটে দেখেছি এখানে দর্শনীয় জায়গা বলতে তিস্তা ব্রীজ, এটা অবশ্য নতুন ব্রীজ , পুরাতন ব্রিটিশ আমলের লোহার ব্রীজ একই সমাল্তরালে হলেও বেশ দুরে, গাড়ীর জানালা দিয়ে দেখেই শখ পুরন হল, এই এক বছরেও কাছে গিয়ে দেখা হয়নি; কুড়িগ্রামের সীমানায় পৌছাতে পৌছাতে বেলা দ্বিপ্রহর, লালমনিরহাটের সেলিমনগর সীমানায় এসে দেখলাম এসপি মেহেদুল করিম স্যার আমাকে রিসিভ করার জন্য গাড়ী ও মোটর সাইকেল বহর পাঠিয়েছেন; মনে পড়ে গেল বছর পাচেক আগে আমি শেরপুরে নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে স্যারকে এভাবেই বরন করেছিলাম, প্রকৃতি আমাদের জন্য যে কত চমক রেখে দেয় তা আমরা ঘটনা ঘটার এক মুহূর্ত আগেও বুঝতে পারিনা।
আজ আমার কুড়িগ্রাম জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্ণ হল।দায়িত্ব নেয়ার ১০ দিন পরই ক স্টবল নিয়োগের বিশাল ও চ্যালেন্জিং কর্মযজ্ঞ, প্রাক্তন আইজিপি স্যার কনস্টবল নিয়োগে যে স্বচ্ছতার সূচনা করেছিলেন পুলিশ সুপার হিসেবে তা নিশ্চিত করাই ছিল আমার জন্য প্রথম চ্যালেন্জ, এখানে বাধা ছিল কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, সিভিল স্টাফ আর কিছু দালাল যারা বছরের পর বছর নানাভাবে মানুষকে প্রতারনা করেছে নিয়োগের নামে; প্রথমেই এই অসাধুচক্র কে চিহ্নিত করে জেলার বাইরে বদলি করা এবং কয়েকজন সিভিল স্টাফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ায় আমার জন্য কাজটা সহজ হয়েছিল; নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর পরই হঠাৎ করে ভারতে ডিসি ডিএম সম্মেলনে যেতে হয়, নিয়োগের মত কাজ রেখে যেতে না চাইলেও যেতে হয়েছিল এবং মিটিং শেষ করেই কোনমতে লান্চ করে আমি প্রায় ৬০০ কিমি পাড়ি দিয়ে সড়কপথে কুড়িগ্রাম পৌছে, পরের দিন সকালেই নিয়োগের বাকি কাজ ধারাবাহিকভাবে শেষ করেছিলাম। ইত্যবসরে জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই হানা দিল বন্যা, সেখানে পুলিশের দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনও মূখ্য হয়ে ওঠে এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধ্যমত ত্রান সরবরাহ করা হয়। দায়িত্ব পালনের প্রথেম থেকই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখানকার ভূপ্রকৃতি, ভারতের সাথে বিশাল সীমানা, কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যর কারনে মাঝেমাঝেই বাধাগ্রস্থ হচ্ছিলাম, তিন মাসেই তাদেরকে চিহ্নত করতে পারায় এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ায় অনেকটা স্বস্তি ফিরে আসে। রংপুর রেন্জের অধিকাংশ জেলার সমস্যা হল এখানে সরাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত সাব ইন্সপেকটর কম এবং তারা অধিকাংশ বয়স্ক ও সারাজীবন এই এলাকায়ই চাকরী করায় ডিএমপি বা পুলিশের অন্য ইউনিটের মত অতটা দক্ষ নন; এদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষনে পাঠিয়ে , মোাটিভেট করে , শাসন ও সোহাগ করে নিজের মত করে তৈরী করতে চেষ্টা করেছি ও করছি , যোগদানের প্রথম ছয়মাস নিয়োগ, বন্যা, বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। প্রতি মাসে ডিআইজি স্যারের অফিসে যখনই আইন শৃংখলা মিটিংয়ে গিয়েছি খেয়াল করেছি যে জেলা শ্রেষ্ঠ হয়েছে তারা কোনদিক থেকে এগিয়ে; চিহ্নিত করতে চেয়েছি অর্জনের ক্ষেত্রগুলো; তারই ধারাবাহিকতায় দেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, দীর্ঘদিন জমে থাকা মামলা সমূহের নিস্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিলের হার বৃদ্ধির জন্য ক্রাশ প্রোগ্রাম , মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী করে সাড়াশি অভিযান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ যোগাযোগ করে জেলার জন্য ৭ টি ব্রান্ড নিউ গাড়ীর বরাদ্দের পাশাপাশি, পুরাতন গাড়ীগুলো সকল থানায় সমন্বয় করে দিয়ে থানা এলাকায় টহল বৃদ্ধি, এএসআই এসআইদের পরাফরমেনস মাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা , ফোর্সের শৃংখলা রক্ষায় নিয়মিত মাস্টার প্যারেড, মাদকের পাচার রোধে মাদক প্রবন এলাকায় এবং জেলার প্রবেশমুখে ২৪/৭ স্থায়ী চেকপোস্ট( যেটা ইতিপূর্ব ছিলনা) , সকল থানায় রাত্রিকালীন টহলগাড়ী বৃদ্ধি , বিভিন্ন বাজারে সিসিটিভি স্থাপন করে মুজিববর্ষে কুড়িগ্রামের আইন শৃংখলা রক্ষায় জেলা পুলিশের কাজকে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছিলাম, যার সুবাদে গত ফেব্রুয়ারীতে কুড়িগ্রাম জেলা রংপুর রেন্জে সেরা জেলা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। হঠাৎ করেই সবকিছুতে ছেদ পরলো করোনার ভয়াল থাবায়; অস্বীকার করার উপায় নেই যে করোনার কারনে পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক অনেকটাই বাধাগ্রস্ত, গত তিন মাস সারাদেশেই পুলিশ ছুটে বেরিয়েছে প্রবাসী, ঢাকা ,নারায়নগন্জ ফেরতদের তালিকা তৈরী, লকডাউন নিশ্চিত করা ; হাটহাজার বিভিন্ন মাঠে স্থানান্তর, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রন, রাস্তাঘাট, মসজিদে জনসমাগম নিয়ন্ত্রন, রোগীকে হাসপাতালে নেয়া, করোনা সম্দেহে ফেলে যাওয়া লাশের জানাজা , দাফন আর অসহায় মানুষের দরজায় খাবার পৌছে দিতে; সারা দেশের মানুষের প্রশংসাও অর্জন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ; জেলা পুলিশ কুড়িগ্রামের সদস্যরাও একই কাতারে সামিল হয়ে করোনা প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, এ কাজে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরনা জনাব দেবদাস ভট্টাচার্য্য, বিপিএম, ডিআইজি , রংপুর রেন্জ স্যার , যার স্নেহে সিক্ত হয়ে রংপুর রেন্জের আটটি জেলার পুলিশ সুপাররা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন; আমার সারা জীবনে দেখা অন্যতম ভালো মানুষ, স্যারের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য আমার জীবনের অন্যতম পাওয়া , ছয়ফুট দীর্ঘ, গৌড়বর্নের মানুষটা সাক্ষাত দেবতা, বচনে এবং চলনে; চাকরী জীবনে এটাও আমার বড় পাওয়া যে এখন পর্যন্ত এমন সব বসের অধীনে কাজ করেছি যারা স্বনামে বাংলাদেশ পুলিশে পরিচিত।দেবদাস স্যার এই রেন্জে যোগদানের পর বিভিন্ন থানাকে জনগনের সেবায় নিয়োজিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, পুলিশকে আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য নানা উদ্ভাবনী পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যার মূল থিম মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার।
লোকপ্রশাসনের একজন ছাত্র হিসেবে আমি সবসময় একজন পেশাদার কর্মকর্তা হতে চেয়েছি, নিজের সবটুকু দিয়েই নিজের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি যখন যেখানে থেকেছি। করোনাকালে পুলিশের মানবিক দিকগুলো অনেক বেশী প্রশংসিত হচ্ছে , কুড়িগ্রাম জেলা দেশের দরিদ্রতম জেলা হওয়ায় এখানে মানবিক সাহায্যর আবেদনও অনেক বেশী, কারও চিকিৎসার জন্য সহায়তা, কারও লেখাপড়ার জন্য সাহায্যের আবদেন প্রায়ই পাই, এ বাবদ সরকারী কোন বরাদ্দ না থাকায় পরিচিতদের মাধ্যমে তাদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন সময়, সবাইকে একে্মোডেট করা সম্ভব না কখনওই; তবুও চেষ্টা করে গেছি, এই এক বছরে এখানকার কষ্টের স্মৃতি যদি বলতে হয় কবে তিলমারীর সুরভীর মৃত্যু, প্রতিবন্ধী যে মেয়েছির চিকিৎসার ভার আমি নিয়েছিলাম আর ভালো লাগার স্মৃতি বলতে সুখাতি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের শিশুদের সাথে কাটানো সময়। তবে মানবিকতা নিয়ে যে আলোচনা তাতে আমার মত একটু ভিন্ন, আমি সবসময় বলি মানবিকতা যেন পেশাদারিত্বকে ছাড়িয়ে না যায়; যেটা আমাদের অনেকেরই মেন্টর মনির স্যারও সবসময় বলেন। একজন পুলিশ অফিসার অবশ্যই সবসময় নিজের কাজটা আগে করবে তারপর অন্যান্য সামাজিক কাজ। এ সময়ে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার চেয়ে জরুরী বিভিন্ন সময়ে জমি নিয়ে বিবাদের জেরে কৃষকের নিজের ধান যাতে অন্য কেউ কেটে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা, ত্রান বিতরনে পুলিশ অনেক প্রশংসা কুড়ালেও মূলকাজ টা হবে সরকারী ত্রান নিয়ে যাতে কেউ অনিয়ম করতে না পারে সেদিকে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো; বর্তমান আইজিপি স্যার দায়িত্ব গ্রহনের পর বলেছেন তিনি চান পুলিশ হবে মানুষের প্রথম ভরসার আশ্রয়স্থল, কুড়িগ্রামে যোগদানের পর সেটাই করতে চেয়েছি, আমি বিশ্বাস করি সেটা নিজের একার পক্ষে করা কোনদিনও সম্ভব না, এজন্য দরকার টিমওয়ার্ক আর তদারকি; অভিণতায় দেখেছি একজন কর্মকর্তা সৎ, দক্ষ হয়ে প্রশংসার পাত্র হলেও অনেক ক্ষেত্রে অধীনস্তদের কাজের মান বা সেবা প্রদানের মান কাঙ্খিত পর্যায়ে থাকেনা, এদিকটা খেয়াল না করলে নিজে মহামানবরুপে পূজিত হলেও বাস্তবে ফলাফল শূন্য।
এখানে আসার আগে বিদায়ের সময় সিটিটিসি প্রধান মনির স্যার বলেছিলেন, কখনওই যেন আমিত্ব নিজেকে পেয়ে না বসে।এখানে বেশকিছু উদযোগের কথা বলেছি যেটা হয়তো আমিত্ব জাহিরের মত মনে হবে, আসলে এসব কাজই জেলা পুলিশ কুড়িগ্রাম এর সকল সদস্যদের নিয়ে করা, আমার পরিবারের ১২৫৪ জন নিয়েই আমি , আলাদা কেউ নই।সামনের দিনগুলোতে জেলা পুলিশের সকল সদস্যকে সাথে নিয়ে করে যেতে চাই আরো অনেক অনেক কাজ।শুধু দরকার আপনাদের ভালবাসা আর সহযোগিতা।
ঢাকা ছেড়ে কুড়িগ্রামে আসার সময় মন খারাপ করে থাকা সারিমও এই এক বছরেই কুড়িগ্রামকে অনেক আপন করে নিয়েছে, এখানে আসার পর প্রথম এক মাস অস্থির থাকতো ঢাতা যাওয়ার জন্য, অথচ গত তিন মাসে বাসায় বন্দী থেকেও সে বলে কুড়িগ্রামই ভাল, আসলেই তো এই সুনীল আকাশ, খোলা মাঠ , অক্সিজেনের ফ্যাকটরি, যখন তখন হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি আর কোথায় পাবে। আমি নিজে পৈত্রিকসূত্রে দক্ষিনবঙ্গর মানুষ, যদিও বেড়ে ওঠা ঢাকায়, নিজ জেলা থেকে মানচিত্রের একেবারে বিপরীতে পোস্টিং হওয়ায় একটা সুবিধা হয়েছে ,এখানে নির্মোহভাবে কাজ করতে পারছি, কোন আত্মীয়, বন্ধু , পূর্বপরিচিত কেউ না থাকায় কোন অন্যায্য তদবির, আবদার শুনতে বা রাখতে হয়না, এক বছেরে স্থানীয় কারও সাথেই পেশাদার সম্প্রকের বাইরে কোন যোগাযোগ নেই, এতদিনে যাদের সাথে মিশেছি তারাও নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন আমার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক আমার ব্যক্তিজীবনেই সীমাবদ্ধ, প্রশাসনিক কোন সূযোগ নেয়ার উপায় নেই তা থেকে। আর যতদিন আছি এভাবেই থাকতে চাই, এখানে আসার আগে ফেসবুকে যেভাবে লিখেছিলাম, অনেক মানুষের পাশে দাড়াতে চেষ্টা করেছি, সামনের দিনগুলোতে আরও বেশীভাবে সাধারন মানুষের পাশে থেকে নিজের ক্ষমতার সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করতে চাই ।

5

74টি কমেন্ট

রিপ্লাই লিখতে চাই