যুদ্ধের ময়দান থেকে ফ্যাশন জগতে

0
15
ফ্যাশন জগতে চমক লাগানো অনুষঙ্গ হাই হিল। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাশন জগতে চমক লাগানো অনুষঙ্গ হাই হিল। ছবি: সংগৃহীত

সোফার ওপর শুয়ে থাকা মেরিলিন মনরোর পা দুটো খেয়াল করলে এক জোড়া কালো রঙের হাই হিল চোখে পড়বে। কালো রঙের হাই হিল জোড়া তাঁকে যে আরও কমনীয় করে তুলেছিল, তা বলাই বাহুল্য। ইতিহাস বলছে, মনরোর মতো সুন্দরীদের পায়ে হাই হিল ওঠার আগে তা ছিল প্রাচীন পারস্যের ঘোড়সওয়ার তিরন্দাজ সৈনিকদের ব্যবহারের জিনিস। তবে অত সরু হিল ছিল না তখন—এ গল্প দশম শতকের। পরবর্তী সময়ে বারো শতকে হাই হিলের মতো জুতা দেখা যায় ভারতের রামাপ্পা মন্দিরের গায়ে নির্মাণ করা মূর্তিতে। এরপর বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাই হিলের বিভিন্ন ধরন দেখা যায়।

সতেরো শতকের গোড়ায় পারসিয়ানরা ইউরোপে দূতাবাস খুললে হাই হিল জুতা ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। ইউরোপীয় অভিজাত মানুষেরা হাই হিল পরতে শুরু করেন। আভিজাত্য প্রকাশে সে সময় জুতার হিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ক্লাউস কার্ল তাঁর সুজ নামে বইয়ে লিখলেন, সাধারণ মানুষের জুতার হিল হবে আধা ইঞ্চি উঁচু, মধ্যবিত্তদের এক ইঞ্চি, নাইটের দেড় ইঞ্চি, সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য দুই ইঞ্চি এবং যুবরাজের জন্য আড়াই ইঞ্চি উঁচু।

উল্লেখ করতে হয়, ষোলো-সতেরো শতকে নারী ও পুরুষ পোশাক, অলংকারসহ প্রায় একই রকম ফ্যাশন অনুষঙ্গ ব্যবহার করত। জুতার বেলাতেও তাই ছিল। তবে নারীদের জুতার হিল ছিল সরু আর পুরুষদের মোটা। জুতার হিলের এই চিরাচরিত আকৃতিগত ধারণার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে সতেরো শতকে। এ সময় পুরুষেরা চৌকো, মজবুত ও অনুচ্চ এবং নারীরা সরু, লম্বা ও বাঁকযুক্ত হিল ব্যবহার শুরু করে।

পরবর্তীকালে, আঠারো শতকে ‘এনলাইটেনমেন্ট’–এর ধারণা বিকশিত হলে মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে। শিক্ষা-সংস্কৃতি-বিজ্ঞান- কৃৎকৌশলের মতো এই আলোকায়নের অভিঘাত লাগে মানুষের ফ্যাশনে। এ সময় অলংকারের ব্যবহার, কাজের ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক উজ্জ্বল রঙের ধোপদুরস্ত পোশাকসহ অযাচিত ফ্যাশন–অনুষঙ্গ ত্যাগ করা শুরু করে পুরুষেরা।

রিপ্লাই লিখতে চাই